চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২১-০৯-২০২৬ ০৬:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২১-০৯-২০২৬ ০৬:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় নিজস্ব ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তৈরি করেছেন প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান (৩৬)।
সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মো. আবু তাহের মণ্ডলের ছেলে আখতারুজ্জামান কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এই পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করছেন। নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন তিনি।
প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, ঢাকার নবাবপুর থেকে এজেন্সির মাধ্যমে বিএসটিআই ও স্রেডা অনুমোদিত 'ওমেপা' এবং 'জিংকো জে.এ' ব্র্যান্ডের নয়টি সোলার প্যানেল ক্রয় করে নিজের একতলা ভবনের ছাদে স্থাপন করেন আখতারুজ্জামান। 'সালেহা অয়েল মিল' নামক এই নেট মিটারিং উদ্যোগ বাস্তবায়নে তার মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে উৎপাদনে যাওয়া প্রতিটি প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫৫০ থেকে ৬৩০ ওয়াট। অনগ্রিড ইনভার্টার প্রযুক্তির সাহায্যে বর্তমানে এই ক্ষুদ্র প্রজেক্ট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪.৯ কিলোওয়াট বা ৪৯০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ সরাসরি মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মেইন গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। এতে মাগুরা-যশোর সড়কের কেচুয়াডুবি এলাকায় অবস্থিত তার নিজস্ব 'সালেহা অয়েল মিল' ও 'সালেহা এলপিজি স্টেশন'-এর প্রায় ৪০ ভাগ বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। চাহিদা মেটানোর পরও প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকছে, যা তিনি প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করছেন। ফলে এই খাত থেকে তার প্রতি মাসে গড়ে ৭ হাজার ৩৫০ টাকা আয় হচ্ছে।
উদ্যোগটি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের কর্মী মো. তানভীর বলেন, "এই সোলার প্যানেলটি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে সাহায্য করছে, প্রতিদিন এখানে দূর দূরান্ত থেকে শিক্ষিত যুবকেরা শেখার জন্য আসে। আমরা প্রতিষ্ঠানের শ্রম দিচ্ছি প্রতিষ্ঠান আমাদের পরিবারের দেখভাল করছে। আমি চাই এই প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় হোক আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হোক।"
প্রকল্পটি পরিদর্শন করতে আসা নতুন উদ্যোক্তা অমিত মিত্র জানান, "আমার বাসায় এক কিলো ওয়ার্ডের প্যানেল আছে, আমার বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে। আমি আক্তার ভাইয়ের কাছ থেকে প্রতিদিনই কিছু না কিছু নিয়মিত শিখছি, আমি আরও অনেকগুলো সোলার প্যানেল বসাতে চাই এবং বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখতে চাই।"
নিজের কাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্যোক্তা প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, "বর্তমান সরকার ও বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ পেলে ভবিষ্যতে এ প্রজেক্টকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।"
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম বিষয়টি মূল্যায়নে বলেন, "বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় সোলারের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে বিদ্যুতের বর্তমান সমস্যা সমাধান করা সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রজেক্ট। মো. আখতারুজ্জামান কর্তৃক স্থাপিত সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে কিছুটা অবদান রাখছেন। তার এই সময়োপযোগী ও উদ্ভাবনী প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই। এমন উদ্যোগ অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।"
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স